শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
আগামী ১৩ই অক্টোবর পিরোজপুর জেলা ছাত্র ইউনিয়নের ২২ তম কাউন্সিল ছাত্র ইউনিয়ন মৌলভীবাজার শহর শাখার নতুন কমিটি : সভাপতি ফাহিম,সম্পাদক তারিন সমাজে পিছিয়ে পরা নারীদের নিয়ে কাজ করবে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি : রুবাইয়াৎ লতিফ পিরোজপুরে আ.লীগ নেতার মেয়ের বিয়ে ভেঙে দেয়ার অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে সুন্দরবনের হরিণ শিকার করে মাংস নিয়ে পাচারের সময় আটক-১ মঠবাড়িয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে বসত ঘরে হামলা : থানায় মামলা বাগেরহাটে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভাসমান বেডে সবজি চাষ পিরোজপুরে বাড়ছে মাল্টা চাষ : স্বাবলম্বী হয়েছেন কয়েক’শ চাষী পড়ুন কোন বয়সে মেয়েদের যৌন চাহিদা সব থেকে হয় গোপন প্রেম-বিয়েতে ব্যস্ত চলচ্চিত্রের বেশির ভাগ নায়িকারা

কাউখালীতে একটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াল উপজেলা প্রশাসন

এনামুল হক,বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০
  • ২৪৫ জন দেখেছেন

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার  আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের আবাসনে ছয় সদস্য নিয়ে সোহাগের সংসার। সে পশ্চিম আমড়াজুড়ি গ্রামের আব্দুল গফফার মিয়ার ছেলে, কর্মঠ এক জন দিনমজুর  ছিলেন। মা,বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তার  পরিবার ভালোই চলছিল। বিধিবাম হঠাৎ করে আট মাস আগে সোহাগের দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে যায়।

বন্ধ হয়ে যায় সংসারের উপার্জন, অসহায় হয়ে পড়ে পুরো পরিবার। সংসারে উপার্জনের এক মাত্র  ব্যক্তি ছিলেন সোহাগ। ভালোই দিন কাটতে ছিল এই গরীব পরিবারটির। হঠাৎ সোহাগের অসুস্থতায় একদিকে উপার্জন বন্ধ হয়ে যায় সংসারের। অন্যদিকে  সোহাগের চিকিৎসার প্রয়োজন,  হাতে নেই কোন টাকা পয়সা, নেই সংসার  চালানোর জন্য কোন চাল,ডাল,তরিতরকারি। না খেয়ে মরার উপক্রম। খেতে না পেয়ে অবুঝ শিশুদের কান্না, স্ত্রীর জামিলা হতাশা নিয়ে  ঘুরে বেড়ায় মানুষের দ্বারে দ্বারে। যখন এমন হাকার ঠিক তখন কাউখালী প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল লতিফ খসরু তার ফেসবুকের মাধ্যমে তুলে ধরেন এই অসহায়  পরিবারটির চিত্র । 

প্রশাসনের নজরে আসলে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক ভাবে চলে যান ওই বাড়িতে এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তার আহব্বানে কিছু হৃদয়বান ব্যক্তি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে প্রধান করেন কিছু টাকা এবং সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকেও  চিকিৎসার জন্য অনুদানের ব্যবস্থা করেন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা। ঐ টাকা দিয়ে আব্দুল লতিফ খসরু তাকে  নিয়ে চিকিৎসার জন্য চলে যান বরিশাল। উন্নত চিকিৎসা চলছিল হঠাৎ করে চিকিৎসারত অবস্থায় ৩১ জুলাই মারা যান সোহাগ ।

পরিবারটি উপর নেমে আসে আমাবস্যার অন্ধকার। সোহাগের মৃত্যুর পরে এতিম দুই শিশুর কান্না, অন্যদিকে মা-বাবার আহাজারি, হতবাক স্ত্রী জামিলা। কে কাকে সান্তনা দিবে,কিভাবে চলবে সংসার, কেউ জানে না, কিভাবে হবে দাফন কোথায় পাবে টাকাপয়সা। ঠিক তখন সোহাগের মৃত্যুর খবর পৌঁছে যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ।করোণায় আক্রান্ত  নির্বাহি কর্মকর্তা করোনা কে জয় করে কাজে যোগ দিয়েছেন মাত্র। তাতেকি সংবাদ শুনে কোন বিলম্ব  নাকরে তিনি  তাৎক্ষণিক ছুটে যান সোহাগের বাড়িতে। চাল,ডাল,খাবার এবং  দাফনের জন্য প্রদান করেন পাচঁ হাজার টাকা। আশ্বস্ত করেন পরিবারটি আগামী দিনের পথ চলার জন্য সহযোগিতা করার।

কথা রাখলেন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোছাঃ খালেদা খাতুন রেখা। গতকাল ১৭ ই আগস্ট উপজেলা মহিলা  ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস আক্তার হাদিয়া, যুব উন্নয়ন অফিসার জুলহাস কবির খান, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার রিপন চন্দ্র ভদ্র, ইউপি চেয়ারম্যান শামসুদ্দোহা চানঁ ও সমাজসেবক আব্দুল লতিফ খসরু কে নিয়ে ছুটে যান অসহায় পরিবারের খোঁজ খবর নিতে। এসময় উপহার হিসেবে সোহাগের  স্ত্রী জামিলাকে স্বনির্ভর হয়ে সংসার চালানোর জন্য দেন একটি সেলাই মেশিন।

৬০ কেজি চাল,ডাল, তেল এবং সংসারে খাওয়ার জন্য যা কিছু প্রয়োজন। সোহাগের মা-বাবাকে প্রদান করেন নতুন কাপড় চোপড়। এতিম শিশুদের শিশু খাদ্য এবং খেলাধুলার সামগ্রী। আজ আর কারো চোখে কান্না নেই সবার মুখেই হাসি। সোহাগের মা-বাবা এবং জামিলা  আনন্দে, খুশিতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  আমাদের স্যার না শুধু তিনি আমাদের গরিবের মা, অসহায় মানুষের অভিভাবক। 

শেয়ার করুন

আরও সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © 2020 prothinkbd (এই সাইটের নিউজ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া কপি করা থেকে বিরত থাকুন)
Design & Developed By: NCB IT
11223
Shares