মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
পিরোজপুর টোনা ইউনিয়ন আ’লীগের কমিটি গঠন : হারুন খান সভাপতি মাসুম খান সম্পাদক পিরোজপুরে শহীদ নূর হোসেন দিবসে ছাত্র ইউনিয়নের শ্রদ্ধা পিরোজপুরের স্বরুপকাঠী বন্দর বিধ্বস্ত দিবসের সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের সংহতি মহানবী (সা.)-কে কটাক্ষ করে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন : প্রতিবাদে চিংড়াখালীতে বিক্ষোভ পিরোজপুরে অতি দরিদ্র দলিত জনগোষ্ঠীর অবস্থান ও করণীয় বিষয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত ইন্দুরকানীতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে নিয়ে সমালোচনা : ওয়ার্ড আ’লীগের সম্পাদক’কে পিটিয়ে আহত পিরোজপুরে শাক-সবজি, চাল ডাল তেলের দাম কমানোর দাবিতে ছাত্র ইউনিয়নের মানববন্ধন পিরোজপুর পৌরসভার কাউন্সিলর প্রার্থী : তরুণ ছাত্রনেতা শওকত পিরোজপুরে রাজাকার পুত্রের বিরুদ্ধে মসজিদের টাকা আত্মসাৎ : গ্রামবাসীর মানববন্ধন আগামী ১৩ই অক্টোবর পিরোজপুর জেলা ছাত্র ইউনিয়নের ২২ তম কাউন্সিল

একদিকে করোনার প্রভাব অন্য দিকে নদী ভাঙন : দিশেহারা পিরোজপুরের পাল সম্প্রদায়

ইমন চৌধুরী,পিরোজপুর
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২০
  • ১৫৬ জন দেখেছেন

একদিকে করোনার প্রভাব অন্য দিকে নদী ভাঙন। এই দুই মহামারীতে থেমে গেছে পিরোজপুরের কুমোর সম্প্রদায়ের কয়েক’শ পরিবারের অর্থনৈতিক চাকা। গেল প্রায় ২-৩ মাস ধরে তাদের উৎপাদিত পণ্য কেনার জন্য দেখা মিলছে না কোন ক্রেতার। এতে করে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে এ সম্প্রদায়ের মানুষের। ক্ষতিগ্রস্থ মৃৎশিল্পীরা চান সরকারি সহযোগিতা।

পিরোজপুর সদর থেকে চার কিলোমিটার দূরে মূলগ্রাম। এ গ্রামের সড়কের পাশে এক বর্গকিলোমিটার জুড়ে অবস্থিত পালপাড়া। দুইশত বছরের পুরানো পালপাড়ায় বর্তমানে ১৫০টি পরিবার বসবাস করছে। প্রতিটি পরিবার মৃৎ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। সারা বছরই এসব এলাকায় নারী ও পুরুষেরা মাটি দিয়ে তৈজসপত্র তৈরি করে সময় পার করেন। চাক ঘুরিয়ে মাটির টালী, ফুলের টব, বাসন, চিতই পিঠার সাজ তৈরি করে থাকে। স্থানীয়ভাবে তৈরি জিনিসপত্রগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারী ক্রেতারা তাদের কাছ থেকে কিনে নেন। তবে এ বছর সারা বিশে^র ন্যায় বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমন হওয়ায় দেখা নাই কোন ক্রেতার। ফলে অনেকটাই বন্ধ রয়েছে সকল রকমের বিক্রি।

আর এ দুর্যোগ কবে কাটবে এ নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। পালপাড়ার মৃৎশিল্পী সিতা রানী,শংকর ও নারায়নরা জানান, নিজেদের যতটুকু পুজি ছিল তার সবটুকুই ইতোমধ্যে ব্যয় হওয়ায়, পুজির সংকটে পড়েছেন এ পেশার সাথে জড়িত কয়েক’শ পরিবার।এখন সরকারি আর্থিক সহযোগিতা না পেলে বিলুপ্তির পথে যাবে মৃৎশিল্প।

এদিকে জেলার কাউখালী উপজেলার সন্ধানদীর পাড়ে গড়ে ওঠা শোনাকুর গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে পাল সম্প্রদায়ের তিনশত পরিবার সবাই এ কাজের সাথে জড়িত। তবে একদিকে করোনার প্রভাব অন্য দিকে অব্যহত নদী ভাঙন। দুই মহামারীতে মৃৎশিল্প গ্রাম খ্যাত কাউখালীর পালবাড়ি এখন অনেকটাই ক্ষতির মুখে। ফলে হাড়াতে বসেছে বাঙালির শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য নিজ হাতে বানানো মাটির তৈরি সুন্দর ও সৃষ্টিশীল প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র। প্রায় ৩৫বছর ধরে সন্ধ্যানদীর অব্যহত ভাঙ্গনের কারনে প্রায় বিলুপ্তির পথে পাল সম্প্রদায় ।

স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা জানান, সন্ধ্যানদীর পাড়ে প্রায় শত বছর ধরে মাটির তৈরি সুন্দর তৈজসপত্র বানিয়ে আসছি। তবে বছরের পর বছর ধরে নদী ভাঙন আছে। সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। একদিকে নদী ভাঙন অন্য দিকে করোনা ভাইরাস। আমাদের চলার মত কোনো অবস্থা নাই।

তবে চেম্বার অব কমার্স’ এর সাধারন সম্পাদক গোলাম মাওলা নকীব জানান, চেম্বার অব কমার্স’এর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করে মৃৎশিল্পের সাথে সংশিল্টদের সহায়তা করা হবে। আর নদী রক্ষাবাধ র্নিমাণ করে মৃৎশীল্প রক্ষা করার আস্বাস দিলেন জেলা প্রশাসন আবু আলী মো.সাজ্জাদ হোসেন ।

২৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প রক্ষায় কার্যকারি পদক্ষেপ ও সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন এ পেশার সাথে জরিত সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন

আরও সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © 2020 prothinkbd (এই সাইটের নিউজ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া কপি করা থেকে বিরত থাকুন)
Design & Developed By: NCB IT
11223
Shares