শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০, ০১:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ইউটিউব চ্যানেলে প্রতিবন্ধী নারীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ শুরবাড়ি বেড়াতে এসে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা : জামাই রফিকুল গ্রেফতার সুদ কারবারীদের নির্যাতনে স্ত্রী করেছেন আত্মহত্যা ভিটেবাড়ি হারিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন শিক্ষক বানারীপাড়ায় ব্রিজ যাচ্ছে খালে,নজরে আসেনি প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের নিজ সন্তানরা বাবাকে ফেলে রাখল গোয়াল ঘরে,পুলিশের হস্তক্ষেপে ঘরে জায়গা পেলেন বৃদ্ধ জায়েদ-পপির বিয়ের গুঞ্জন কেশবপুরে যৌত্যুকের বলির শিকার নব-বধূ সালমা পশ্চিম পাড়ায় হযরত আবু বক্কর (রাঃ) জামে মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু আমি মেজর সিনহাকে কখনো দেখিনি,চিনিও না : কোবরা চালককে অচেতন করে অটোবাইক নিয়ে পালানোর সময় নারী সহ আটক ৩

অনলাইনে ক্লাসে অভিভাবকদের স্বস্তি : গোপনে প্রাইভেট টিউশুনিতে বাড়ছে অস্বস্তি

এম এ রহিম,বেনাপোল
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২০
  • ১০৯ জন দেখেছেন

যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গুগল,নিজস্ব ওয়েবসাইট অথবা ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে অভিভাবকও শিক্ষার্থীরা।তবে গোপনে টিউশনি চলায় বাড়ছে অস্বিস্তি ও করোনা ঝুকি 

ভয়াবহ করোনার কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কত দিন বন্ধ থাকবে তা নিশ্চিত নয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অনলাইনে পড়ালেখা শুরু করেছে।ফেসবুকপেজে নিয়মিত ক্লাস লেকচারের ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে।উপজেলার নাভারন ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজ,সরকারি বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ কলেজ,বেনাপোল কলেজ,লক্ষনপুর স্কুল এন্ড কলেজ ও উপজেলা কলেজ মাধ্যমিক স্কুলগুলোর মধ্যে শার্শা সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়,বুরুজবাগান পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়,বুরুজবাগান এমএল মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ ১৮টিস্কুল ওকলেজে এই কার্যক্রম চলছে।ওয়েবসাইট পেজখুলে অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছে।ফেসবুকে পেজ খুলে এর মাধ্যমে লেখাপড়া চালুতে খুশি শির্ক্ষীরা

নাভারন ডিগ্রি কলেজ অধ্যাক্ষ ইব্রাহিম খলিল,নাভারন গার্লূসস্কুল প্রধান শিক্ষক মোমিন উদ্দিন , বলেন,অনলাইনে যুক্ত হয়ে ক্লাশ করায় করানোয় উপকৃত হচ্ছে কিছু শিক্ষার্থীরা,কিছু বাধ্য বাধকতার কারনে জুম বা গ্রুপক্লাশ করা যাচ্ছেনা।গ্রাম এলাকার শিক্ষার্থীরা মোবাইল ও নেট সমস্যার কারনে করতে পারছেনা অনলাইন ক্লাশ-তবে ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে ক্লাশ করায়উপকৃত হচ্ছেন অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চৌধুরি হাসান হাফিজুর রহমান বলেন,কর্ত্তৃপক্ষের নির্দেশনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নেওয়া শুরু করেছে।এছাড়া সংসদ টেলিভিশনে প্রচারিত ক্লাস এবং সিটি ক্যাবলে প্রচারিত ক্লাস দেখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।মহামারি করোনার কারনে শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে,শিক্ষার ভেতরে থাকে তাই ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অনলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে,অন্যরাও খুব শীঘ্রই শুরু করবেন ।উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাইস্কুলের শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশনি শুরু করেছে। সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে যারা টিউশুনি করাচ্ছে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। টিউশনি বন্ধ না করলে আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।   

তবে অভিভাবকরা বলছেন,যাদের ওয়েবসাইট নেই কিম্বা থাকলেও সক্রিয় না,তারা খুব সহজেই ফেসবুকে পেজ খুলে এর মাধ্যমে লেখাপড়া চালু রাখতে পারেন।একজন অভিভাবক সাইফুর রহমান বলেন,এবার মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দেবে।করোনায় এখনো পরীক্ষা হলো না। এখন কলেজ নেই, প্রাইভেট নেই, বাচ্চা পড়ালেখাও করছে না।চিন্তায় ছিলাম। অনলাইনে পড়ালেখার উদ্যোগ নেওয়ায় অন্তত কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। অনামিকা আফরিন ছোঁয়া এবার জেএসসি পরীক্ষা দেবে।তার মা লেছি ইয়াছমিন মেয়েকে নিয়ে খুব চিন্তিত। লেছি বলেন,করোনায় স্কুল বন্ধ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাইভেট টিউটরকেও না আসতে বলেছি। আর সেও আসতে চাচ্ছিল না। মেয়েকে নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলাম। সংসদ টিভি আর যশোরের সিটি কেবল আমাকে অনেকটা চিন্তা মুক্ত করেছে।

 উপাধ্যাক্ষ হরেন্দ্র কুমার ঘোষ জানান, বেশির ভাগ শিক্ষার্থীকে ফেসবুকের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাসে যুক্ত করা যাবে বলে আমরা আশাবাদী। ক্লাস নিতে গিয়ে সমস্যা হলে শিক্ষকরা তাদের অসুবিধার কথা আমাদেরকে জানাবেন।শার্শার একটি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম তার ফেসবুক পেজে নিয়মিত ক্লাস লেকচারের ভিডিও আপলোড করছেন। রবিউল ইসলাম বলেন,কলেজ পর্যায়ের সকল শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন আছে। ফেসবুক পেজের মাধ্যমে তারা বাসায় বসে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছে।কিন্তু গুগল,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট অথবা ফেসবুক পেজে থাকার জন্য ডেটা খরচহয়।গ্রামের সাধারণত শিক্ষার্থীদের পক্ষে এই খরচ বহন করা অনেকটা দুরূহ। তাইডেটা খরচ কমানোর দাবি জানাচ্ছি।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘এটুআইপ্রকল্পের সহযোগিতায় সংসদ টেলিভিশনে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চলছে।একই ভাবে যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিটি ক্যাবলের মাধ্যমেও প্রতিদিন সন্ধায়অষ্টম ও দশম শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম চলছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাইস্কুলের শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশনি শুরুকরেছে। সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে তারা প্রাইভেট টিউশনি শুরু করাই অভিভাবকরাতাদের সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে। বাড়ছে করেনা ঝুকি এ ব্যাপারে অভিভাবকরা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শেয়ার করুন

আরও সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © 2020 prothinkbd (এই সাইটের নিউজ, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া কপি করা থেকে বিরত থাকুন)
Design & Developed By: NCB IT
11223
Shares